১৪ ডিসেম্বর ২০১৯

ম্যাজিশিয়ান হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত হতে চান সূচনা

-

বাংলার নন্দিত নারী ম্যাজিক তারকাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ময়মনসিংহের বিখ্যাত ম্যাজিশিয়ান আজরা জেবিন। তার ম্যাজিক দেখে ছোট বেলা থেকে নিজেকে একজন প্রতিষ্ঠিত ম্যাজিশিয়ান হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন দেখেন এই সময়ের তরুণী সাবরিনা জান্নাত সূচনা। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ছয় বছর। বয়স কম হলেও সাহস আর ইচ্ছাশক্তির কাছে ম্যাজিক নামক বিদ্যা অবশেষে হার মানে। ১৭ বছর বয়সী সূচনা বাবা-মা ও শিক্ষকের (ওস্তাদ) সহযোগিতায় এখন প্রায় ৪০০ ম্যাজিক আয়ত্ব করেছেন। ছোট বেলা থেকেই ম্যাজিক শেখার জন্য পড়াশোনার পাশাপাশি তাকে পার করতে হচ্ছে কঠিন সময়। এই কঠিন চ্যালেঞ্জের বিদ্যা শেখার ক্ষেত্রে যেখানে পরিবারের সহযোগিতা মেলা খুব কঠিন হয়ে পড়ে, আর সেখানেই সূচনার পরিবার তাকে সাহস জোগাতে থাকে। পরিবারের সহযোগিতা ও নিজের সাহসিকতায় এই তরুণী এখন দেশের কনিষ্ঠ ম্যাজিশিয়ানদের মধ্যে অন্যতম।
সাবরিনা জান্নাত সূচনার বাবা আরফান আলী পেশায় আইনজীবী। মা ছালেহা চৌধুরী পেশায় স্কুলশিক্ষক। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশার উকিলপাড়ায় ছোট বেলা থেকেই বেড়ে ওঠা সূচনা কৃতিত্বের সাথে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তর অতিক্রম করে এখন ময়মনসিংহের রয়েল মিডিয়া কলেজের একাদশ শ্রেণীতে অধ্যয়ন করছেন। গান ও উপস্থাপনায়ও রয়েছে বেশ দক্ষতা।
মুহূর্তের মধ্যে অদ্ভুত সব কাজ করা এখন এই তরুণীর আছে কঠিন কোনো বিষয় না। তার ম্যাজিকের কাছে দর্শকরা বরাবরই চমকে যান আর অবাক হন। হাত আর শরীরের অঙ্গভঙ্গিকে কাজে লাগিয়ে দর্শকদের বোকা বানিয়ে আনন্দ দেয়া এখন তার নেশা।
এ ব্যাপারে নয়া দিগন্তের সাথে আলাপচারিতায় সূচনা জানান, ম্যাজিক এক অনির্বচনীয় আনন্দের সম্পদ। দর্শকদের নিশ্চিতভাবে অবাক করে দেবে এমন ম্যাজিক আবিষ্কার করা একটি কঠিন কাজ। ছোট বেলা থেকেই আমার ম্যাজিকের প্রতি আগ্রহ ছিল বেশ প্রবল। তাই নিজের ইচ্ছে আর সাহসের ওপর ভর করে ম্যাজিক শেখার সিদ্ধান্ত নেই। তবে নিজের কল্পনার মতো ম্যাজিকটি যখন দর্শককে চমকে দেয়, তখন আনন্দের সম্পদ হয়ে হৃদয়ে জমা হয়।
সূচনা আরো জানান, ময়মনসিংহের একজন বিখ্যাত ম্যাজিশিয়ান ছিলেন আজরা জেবিন। তার ম্যাজিক দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ম্যাজিক জগতে আসেন। যখন সূচনা ২০০৮ সালে প্রথম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত তখন তার (সূচনার) হাতেখড়ি হয় প্রিয় ম্যাজিশিয়ান শিক্ষাগুরু ইকবাল পাশার কাছে। সূচনার প্রিয় ম্যাজিকগুলোর মধ্যে অন্যতম ক্লোজআপ (যেসব ম্যাজিক ক্যারি করা যায়), ম্যানোপিলেশন, ডিসএপেয়ায় (যেকোনো জিনিস তৈরি ও ধ্বংস করা)।
তিনি জানান, ২০১৭ সালে বিটিভিতে শো করেন। এ ছাড়াও ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে মেয়র জাতীয় জাদু উৎসব ২০১৮ এবং ঢাকা শিল্পকলা একাডেমিসহ স্থানীয়ভাবে বছরে ১০ থেকে ১৫টি ম্যাজিক শো করে থকেন। ম্যাজিক শো করে তিনি যে টাকা উপার্জন করেন, তা দিয়ে ম্যাজিকের সরঞ্জামাদি কিনে বাকি টাকা পথশিশু দুস্থদের মধ্যে বিলিয়ে দেন।
আপনার চোখে সেরা জাদুকর কে? এমন প্রশ্নে জবাবে সূচনা বলেন, ‘নিঃসন্দেহে জুয়েল আইস স্যার। তবে আমার মতে, আমার শিক্ষাগুরু ইকবাল স্যার।’ তবে সূচনা নিজেকে ম্যাজিশিয়ান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বিখ্যাত ম্যাজিশিয়ান ডেভিড কপারফিল্ড ও পিসি সরকারকে অনুসরণ করছেন।
বাংলাদেশে ম্যাজিকের ভবিষ্যৎ উল্লেখ করে সূচনা বলেন, ‘ম্যাজিক মানুষের মনে আনন্দ জোগায়। ম্যাজিক দেখার মতো মন নেই এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। ম্যাজিককে পেশা হিসেবে অনেকেই বেছে নিয়েছেন। তাই এই ম্যাজিক বিদ্যাকে পুঁথিগত বিদ্যার অন্তর্গত করা যেতে পারে। সেই সাথে যেসব প্রতিষ্ঠান ম্যাজিক শেখায়, তারা যদি সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতা পায়; তবে এ পেশাটি বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।


আরো সংবাদ