২১ নভেম্বর ২০১৯

মানিকগঞ্জে নারীদের ব্যতিক্রমী আয়োজন

-

বিশ^ খাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্য ‘আমাদের কর্মই আমাদের ভবিষ্যৎ পুষ্টিকর খাদ্যই হবে আকাক্সিক্ষত ক্ষুধামুক্ত পৃথিবী’ সামনে রেখে ঘিওর উপজেলার, বানিয়াজুরী, ইউনিয়নের বহুজা গ্রামের মো: বাবর আলীর বাড়িতে স্থানীয় নারী সদস্য ও বারসিকের উদ্যোগে অচাষকৃত খাদ্য উদ্ভিদ প্রদর্শনী, রান্না ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপসহকারী কৃষিকর্মকর্তা বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, আমরা বেশি উৎপাদনের আশায় আমরা পরিবেশকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছি রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করে। অন্য দিকে আমাদের স্বাস্থ্যর ক্ষতি হচ্ছে। আমরা নিজেদের বাড়িঘর তৈরি করতে ফসলি জমি নষ্ট করছি। আমাদের বাড়ির চার পাশে যেসব উদ্ভিদ জন্মে তার পুষ্টিগুণ যে কত তা জানতে চাই না। গাংডুবী কৃষক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক প্রফুল্ল মণ্ডল বলেন, আমরা ছোট বেলায় আমার মাকে দেখতাম বাড়ির চার পাশের শাক কুড়িয়ে কুড়িয়ে রান্না করতেন বাজার থেকে কোনো দিন শাক কিনতে হতো না। এসডিআই বানিয়াজুরীর সমৃদ্ধি কর্মসূচি সমন্বয়কারী মো: শহীদ উল্লাহ বলেন, আমাদের প্রতিটি পরিবার থেকে আবার শুরু করতে হবে অচাষকৃত উদ্ভিদের ব্যাবহার করা এবং এগুলোকে রক্ষা আমাদের সবার জন্য জরুরি। কৃষক গবেষক মো: মাসুদ বিশ^াস বলেন, আমরা গ্রামে থেকে গ্রামের বৈচিত্র্য হারিয়ে ফেলছি এমন উদ্যোগ প্রতিটি গ্রামে গ্রামে করা উচিত আর রাস্তার ধারে বাড়ির চারপাশে যে উদ্ভিদ পাওয়া যায় তা যেন নষ্ট করা না হয় তার জন্য সব পরিবারের খাবারের তালিকায় রাখতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনসহ কৃষি কাজে নারীর রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক স্বীকৃতি চাই এবং আমাদের পরিবারের অভ্যাস ঘুচাতে পারলে আমরা নিরাপদ খাবার খেতে পারব।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেনÑ বারসিক কর্মকতা রাশেদা আক্তার, মো: মাসুদুর রহমান, সুবীর কুমার সরকার, মো: নজরুল ইসলাম। এলাকার নারীনেত্রী শারমীন আক্তার নতুন প্রজন্মের কাছে অচাষকৃত উদ্ভিদের গুণাগুণ তুলে ধরেন। অচাষকৃত খাদ্য রান্না প্রতিযোগিতায় শামসুর নাহার বৌ টুনি, সেঞ্চি, বনকচু, তেলাকুচ, কলমী, শাপলা, ডিমা, থানকুচি, পুই, কাটানুটা দিয়ে শাক রান্না করে প্রথম স্থান অধিকার করেন, দ্বিতীয় হন পারভীন আক্তার, তৃতীয় কছিরন বেগম ১৯ জন নারী রান্না প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। অন্য দিকে ১৫ জন নারী অচাষকৃত উদ্ভিদের প্রদর্শনীতে অংশ নেন।


আরো সংবাদ