ব্র্যাক-কোপেনহেগেন কনসেনসাস সেন্টারের সেমিনার

শিক্ষা খাতে সঠিকভাবে বিনিয়োগ করলে ১৯ গুণ সুফল মিলবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

‘বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে নীতিগত অগ্রাধিকার’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, গুণগত শিক্ষার অভাব, প্রাথমিক পর্যায়ের পর মাধ্যমিক পর্যায়ে ঝরে পড়ার হার বৃদ্ধি, শিশুদের মেধাভিত্তিক ভাগ না করে শিক্ষা দেয়া, শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি, শিক্ষক স্বল্পতা, শিক্ষকদের জবাবদিহিতা কম থাকা ইত্যাদি বাংলাদেশে শিক্ষা ক্ষেত্রের বড় দৈন্য। এসব সমস্যা ও দৈন্য জিইয়ে রেখে শিক্ষার অগ্রগতি আসবে না। এর জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন শিক্ষা খাতে সঠিক বিনিয়োগ। সেমিনারে বক্তারা আরো বলেন, বিনিয়োগ হিসেবে শিক্ষা সবচেয়ে লাভজনক হলেও এ খাতে প্রত্যাশা অনুযায়ী বাজেট বরাদ্দ হচ্ছে না। অথচ শিক্ষা খাতে সঠিকভাবে প্রারম্ভিক শিশু বিকাশে এক টাকা বিনিয়োগ করলে তার বিপরীতে ১৯ গুণ সুফল মিলবে।
গতকাল রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে নীতিগত অগ্রাধিকার’ শীর্ষক সেমিনারে মূল প্রবন্ধে ও বক্তাদের আলোচনা থেকে এসব তথ্য উঠে এসেছে। বাংলাদেশ সরকারের রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নে করণীয় নিয়ে সুপারিশমালা তুলে ধরতে ব্র্যাক ও আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা কোপেনহেগেন কনসেনসাস সেন্টারের যৌথ উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। ব্র্যাকের শিক্ষা কর্মসূচির পরিচালক ড. শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব চৌধুরী মুফাদ আহমেদ, ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি এডওয়ার্ড বেগবেদার, সেভ দ্য চিলড্রেনের শিক্ষা কর্মসূচির পরিচালক তালাত মাহমুদ, ব্র্যাকের গবেষণা ও মূল্যায়ন বিভাগের পরিচালক প্রফেসর আব্দুল বায়েস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রফেসর ড. এস এম হাফিজুর রহমান প্রমুখ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. অতনু রাব্বানি।
এ ছাড়া ‘বিলম্বে শিশু বিয়ে ও শিক্ষার মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন’ শীর্ষক আরেকটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী শিক্ষক ড. আহসানুজ্জামান।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে নীতিগত অগ্রাধিকার দেয়ার বিষয়টি মুখ্য। একই সাথে বাংলাদেশ সরকার শিশু ও মাধ্যমিক শ্রেণীতে ছাত্রীদের জন্য মনোসামাজিক উদ্দীপনা প্রদানের বিষয়টিকে প্রাধান্য দেয়া হবে।
ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, বাজেট বৃদ্ধির পাশাপাশি আমাদের মানসম্মত শিক্ষার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। ‘দক্ষতা গঠনে স্বীকৃতি’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধে বলা হয়, শিক্ষা খাতে সঠিকভাবে প্রারম্ভিক শিশু বিকাশে এক টাকা বিনিয়োগ করলে তার বিপরীতে ১৯ গুণ সুফল মিলবে। এ ছাড়া অল্পশিক্ষিত গার্মেন্ট শ্রমিক বা কারখানার শ্রমিকদের প্রশিক্ষিত ও ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার জন্য বিনিয়োগ করলে এক টাকার বিপরীতে ৫.৪ টাকার সুফল পাওয়া সম্ভব।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.